বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে সম্প্রতি বেশকিছু চীনা কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই চীন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর সিএনবিসি।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ তালিকায় রয়েছে এমপি ম্যাটেরিয়ালস কর্প ও ইউএসএ রেয়ার আর্থের মতো বিরল খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিল ড্রোনস ও জাইয়া রোবোটিকসও তালিকায় রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে চীন থেকে কোনো দ্বিমুখী ব্যবহারের (সামরিক ও বেসামরিক) পণ্য এসব কোম্পানির কাছে রফতানি করা যাবে না বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেকট্রনিকস নির্মাতা অ্যাভিওক্স ইনক, বল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড টেকনোলজিস কর্প ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী ওশকোশ ডিফেন্সের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
একই দিনে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি কোম্পানিকে সরকারি ক্রয় প্রকল্প থেকে বাদ দিয়েছে। এ কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার।
চলতি মাসের শুরুর দিকে পেন্টাগন ১২৬০এইচ নামের কালো তালিকাটি হালনাগাদ করে। সেখানে বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনীকে সাহায্য করার অভিযোগে চীনের বেশকিছু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে আলিবাবা গ্রুপ, বাইদু ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি (বিওয়াইডি) অন্যতম।
চীন এর তীব্র সমালোচনা করে বলে, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বৈষম্যমূলক তালিকা তৈরি করছে। নিজেদের কোম্পানির বৈধ অধিকার রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের পাল্টা পদক্ষেপটি মূলত প্রতীকী। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো অবনতি হবে না।
দি এশিয়া গ্রুপের চীনবিষয়ক পরিচালক হ্যান শেন লিন জানান, যেসব মার্কিন কোম্পানিকে লক্ষ্য করা হয়েছে, চীনে তাদের বড় কোনো ব্যবসা নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠক গত মাসে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে ওয়াশিংটন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কনজিউমার ইলেকট্রনিকস ও বায়োটেকের মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কালো তালিকাভুক্ত হওয়া বেশকিছু চীনা কোম্পানি এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি আদালতের মাধ্যমে কালো তালিকা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করতে সক্ষম হয়েছিল।